রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সাভারের আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের মধ্যে অন্যতম হোতা মোহাম্মদ আরিফ (২৮)কে সাভারের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আরিফের কাছ থেকে পাঁচটি বোমাসদৃশ বস্তু, ককটেল ও হাতবোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পৃথক এসব ঘটনায় মূলহোতা নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কেও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একটি বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান পরিচালনার পর আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও বিস্ফোরকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আরিফকে আটক করার পর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বোমাসদৃশ বস্তু ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই আশুলিয়ার একটি মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকেও একটি বোমা উদ্ধার করে সিটিটিসি। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। দুটি ঘটনায় বোমার উৎস, এগুলো কারা সেখানে রেখেছে এবং কোনো উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, তদন্তে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন আরিফ এবং অন্যজন মূলহোতা ‘বোমারু মামুন’। মামুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।