জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ডিবি কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কের খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের ওপর বিরক্ত হয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে হারুন অর রশীদের একটি অডিও কথোপকথনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-কে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ওই কথোপকথনে নিজের বদলি ঠেকাতে ওবায়দুল কাদেরের সহযোগিতা চেয়েছিলেন হারুন। তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য কাদেরকে অনুরোধ করেন। কথোপকথনে হারুন জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ হয়ে যেতে পারে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হারুন অর রশীদকে ডিবি থেকে বদলি করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে একই দিনে ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মধ্যে হওয়া আরেকটি ফোনালাপও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন প্রসিকিউটর। সেখানে কাদের হারুনকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চান। জবাবে আসাদুজ্জামান খান জানান, শেখ হাসিনা হারুনকে অন্যত্র দেওয়ার বিষয়ে অনড় ছিলেন। তবে তাকে ডিএমপির মধ্যেই রেখে দায়িত্ব পরিবর্তন করার কথা জানান তিনি।

কথোপকথনের একপর্যায়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বারবার কথা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। এ বিষয়ে কাদেরকে সহযোগিতা করতে বলেন তিনি। পরে কাদের তাকে বিষয়টি শেখ হাসিনাকে জানাতে বলেন এবং তৎকালীন আইজিপির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের এসব ফোনালাপ ও ঘটনাকে মামলার যুক্তিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে তুলে ধরেছে রাষ্ট্রপক্ষ।