উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর যমুনার ক্রমবর্ধমান স্রোতে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ী এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত ১৯ জুন থেকে শুরু হওয়া এ ভাঙনে প্রতিদিনই একের পর এক ফসলি জমি,পাটখেত ও মানুষের স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি চলে যাচ্ছে নদীর অতলে। শতাধিক পরিবারের বসতভিটা এখন সরাসরি হুমকির মুখে। একটাই প্রশ্ন ঘুরছে নদীপাড়ের মানুষের মনে,ভাঙন থামাতে না পারলে শহড়াবাড়ীর শেষ চিহ্নটুকুও কি টিকবে?
ভাঙনের ভয়াবহতা।
সরেজমিন দেখা গেছে, শহড়াবাড়ী স্পার থেকে বানিয়াজান স্পার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনার তীব্র ভাঙন চলছে। শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীতে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই তীরের কোনো না কোনো অংশ ধসে পড়ছে। পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ধীরে ধীরে জনবসতির দিকে এগিয়ে আসায় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি এখন সরাসরি ঝুঁকিতে।
ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন। অনেকেই নিজের চোখের সামনে জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
শহড়াবাড়ী গ্রামের কৃষক মোঃ শামছুল হক বলেন, নদী আগে অনেক দূরে ছিল। ঋণ করে পাট চাষ করেছিলাম। কয়েক দিনের ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ভিটেমাটিও হারানোর ভয়ে আছি।
প্রতিরোধে জিও ব্যাগ, তবু শঙ্কা।
ভাঙন রোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলছে। তবে যমুনার প্রবল স্রোতে কয়েকটি স্থানে সেসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, শহড়াবাড়ী এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, গত দুই সপ্তাহে ভাঙন বেড়ে এখন জনবসতির দিকে চলে এসেছে। সাময়িকভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চললেও এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হবে এবং শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও।
নদীতীরের মাটি ধসে পড়ার প্রতিটি শব্দে এখন কেঁপে ওঠে শহরাবাড়ীর মানুষের বুক। স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে যমুনার করাল গ্রাসে শহরাবাড়ীর বড় একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী