যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে হত্যার ভয়াবহ পরিকল্পনার তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে লক্ষ্য করে বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল সন্দেহভাজনরা। পুরো টুর্নামেন্টে মেসিই সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া খেলোয়াড় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টার (আইপিসিসি) ও এফবিআইয়ের প্রতিবেদনের বরাতে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমাসিওন ডট ইএস জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে সামনে রেখে মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকি দেওয়া হয়। ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিল।

এরপর ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করে, সে আরও দুজনকে নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে এবং তাদের কাছে বিস্ফোরক ও একটি রাইফেল রয়েছে। দুই দলের খেলোয়াড় ও পুলিশের ওপর হামলার কথা বলার পাশাপাশি সে বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করে। আরেক ঘটনায় ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে বিস্ফোরক রাখার দাবি করা হয়। খবর পেয়ে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর ও তাদের হ্যান্ডলাররা স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালায়।

মেসির পাশাপাশি পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও একাধিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। ১৪ জুন এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলে অবস্থানের তথ্য জানতে চাওয়ার পর তাকে শনাক্ত করে হিউস্টন পুলিশ। দুই দিন পর ওই ব্যক্তিকে রোনালদোর হোটেল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

টরন্টোতেও এক সমর্থক রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিল, সে শুধু রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিল। এছাড়া মিয়ামিতে আরও একজন রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও রোনালদোর জার্সি পরা এক ব্যক্তি মাঠে ঢুকে পড়েন।

এদিকে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও অনলাইন হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচের একটি ঘটনার পর তাকে অনলাইনে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের মাধ্যমে অপমান করা হয়। পাশাপাশি প্যারাগুয়েতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপের ছবি সংবলিত একটি পুতুল পোড়ানোর ঘটনাও সামনে আসে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে একাধিক তারকাকে ঘিরে এমন হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য প্রকাশের পর খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।