দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই সরকারের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। পাইলট প্রকল্প শেষে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারের কাছে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার এ ধরনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে কোনো প্রস্তাবনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। দেশকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না, এগিয়ে যেতে হবে এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অতীত ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সেই অপরিকল্পিত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সরকার কাজ করছে।

জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সময় প্রয়োজন। আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি খাত কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

মানুষের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।