ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয় চন্দ্র সরকারের (২৩) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে ভারত থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছে, জয় চন্দ্র সরকার আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত জয় চন্দ্র সরকার দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর কৈবত্যপাড়া গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের বড় ছেলে। তিনি কলকাতার পার্শ্ববর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতে অবস্থিত বেসরকারি ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটির বিটেক সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতের পরিবার জানায়, গত ৬ আগস্ট রাত ৮টার দিকে জয় চন্দ্র সরকারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকারকে জানান, তার ছেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাতে পরিবার জানিয়েছে, জয় চন্দ্র সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহজনক এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারাসাত থানায় আটক রাখা হয়েছে।

নিহতের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার জানান, ২০২৪ সালে তার ছেলে স্টুডেন্ট ভিসায় ভারতের দিল্লির সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি হন। বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় ২০২৫ সালে তিনি কলকাতার অদূরে বারাসাতের ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন।

ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবার এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং হত্যার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জয় চন্দ্র সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে পার্বতীপুরের মন্মথপুর কৈবত্যপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করা হয়নি।