পিরোজপুরের নেছারাবাদে কৃষকের গবাদিপশু পাহারা দেওয়া পাঁচটি কুকুরকে অচেতন করে একটি গর্ভবতী গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত খাবার দিয়ে যেসব কুকুরকে আপন করে নিয়েছিলেন কৃষক হরিদাস হালদার, রাতের বেলায় তারাই পাহারা দিত গোয়ালঘর। তবে সেই পাহারাদার কুকুরগুলোকে অচেতন করেই গরুটি নিয়ে গেছে চোরেরা।

গত ৮ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের থালিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে গরু চুরির বিষয়টি টের পান হরিদাস হালদার। তার ধারণা, ৭ আগস্ট রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, হরিদাসের গোয়ালঘরের পাশে রাতে নিয়মিত অবস্থান করত পাঁচটি স্থানীয় কুকুর। কৃষক হরিদাস দীর্ঘদিন ধরে তাদের খাবার দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে কুকুরগুলো বাড়িটির সঙ্গে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে রাতে তারা গোয়ালঘরের গরুগুলোও পাহারা দিত।

ঘটনার রাতে চোরেরা কোনো ধরনের অচেতনকারী দ্রব্য ব্যবহার করে পাঁচটি কুকুরকে অচেতন করে ফেলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর গোয়ালঘর থেকে একটি গর্ভবতী গরু নিয়ে যায় তারা। ভোরে গোয়ালঘরের কাছে গিয়ে গরু না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন হরিদাস। কিছুটা দূরে গিয়ে দেখতে পান, তার প্রিয় পাঁচ পাহারাদার কুকুর মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।

পরিবারের দাবি, চুরি যাওয়া গরুটি গর্ভবতী ছিল এবং আর মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বাছুর প্রসব করার কথা ছিল। ফলে গরু হারানোর পাশাপাশি অনাগত বাছুর নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ঘটনার তিন দিন পরও পাঁচটি কুকুর পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তারা খাবার খাচ্ছে না এবং ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না।

কৃষক হরিদাস হালদার বলেন, কুকুরগুলোকে তিনি নিয়মিত খাবার দিতেন এবং তারাই রাতে গরু পাহারা দিত। এখন গরুটি চুরি যাওয়ার পাশাপাশি কুকুরগুলোর অবস্থাও খারাপ হয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ জানান, চুরির ঘটনায় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হবে। পাশাপাশি ইন্দুরহাট ও চাঁদকাঠির দিকে যাওয়ার সড়কগুলোর তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।