জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পুরোনো একটি ছবি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এভাবে ছবি ও তথ্য উপস্থাপন করে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ।

রোববার (৯ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, আলোচিত ছবিটি ২০২৩ সালের ৪ মে সময় টেলিভিশনের ‘রাতের টকশোর পূর্বে’ তোলা একটি পুরোনো ছবি। তবে সেটিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

পোস্টে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা যায়নি। তিনি নিয়মিত ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের চলমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও পোস্টে অভিযোগ করা হয়। পুরোনো ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরির এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে রোববার সকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও আরও একজনকে দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে পাটওয়ারী লেখেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’

তবে ছবিতে থাকা ক্যামেরার স্বয়ংক্রিয় দিন-তারিখের তথ্য অনুযায়ী, সেটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা হয়েছিল। এ নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ পাটওয়ারীর পোস্টে বিরূপ মন্তব্য করলে তিনি কমেন্টে ছবির বিষয়ে আরও কিছু তথ্য দেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, ছবিতে এহছানুল হক মিলন ও শাজাহান খানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই চৌধুরী। তিনি বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করেন পাটওয়ারী।

পাটওয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল হাই চৌধুরী ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। এ কারণে তার পদোন্নতি এবং শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকায় পোস্টিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিষয়টি নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে দাবি করে এর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুরোনো ছবিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব বা অপপ্রচারের পরিবর্তে সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে।