রংপুরের পীরগঞ্জে এক নারীকে বাগানে নিয়ে আটকে মারধর, ধর্ষণের চেষ্টা, ভিডিও ধারণ এবং ৪০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে পাঁচ তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী রাবেয়া খাতুন (১৯) উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের শরিফেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্তরা হলেন তারেক মিয়া (২২), বাবু মিয়া (২৩), মিরাজুল মিয়া (২৪), হিমেল মিয়া (২১) ও নাঈম মিয়া (২০)।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে রাবেয়া তার স্বামী রিজু মিয়া ও প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়ার সঙ্গে কুমেদপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাঁচা মরিচ কেনার জন্য তার স্বামী আবার বাজারে চলে যান। পরে রাবেয়া ও আবদুল হালিম বাড়ির দিকে রওনা হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা তারেক মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন। এ সময় তাদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দেওয়া হয় এবং আবদুল হালিমের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে আবদুল হালিম সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এরপর রাবেয়া খাতুনকে একটি বাগানে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি চিৎকার করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার পোশাক খুলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে রাবেয়াকে সেখানে আটকে রেখে তার স্বামীর কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্তরা তাকে তাদের শেখানো কথা বলতে বাধ্য করেন এবং সেই বক্তব্যও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে রাবেয়ার স্বামীকে ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখানোর পর তাকে স্বামীর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়ে রাবেয়ার স্বামী রিজু মিয়া, প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়াসহ আরও কয়েকজন অবগত আছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে এবং তারা ষড়যন্ত্রের শিকার।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।