কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নির্মাণাধীন চিলমারী নদী বন্দর প্রকল্পে নিম্নমানের ও পরিত্যক্ত পাথর ব্যবহারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে কিভাবে এই নিম্নমানের পাথর প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালিত মুড়ির ধুমধারাক্কা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা হলেও কাজের অগ্রগতি তেমন কিছুই হয়নি। জুলাই ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত হলেও কাজের ধীরগতির কারণে হতাশা প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনগণ।

গত ৮ আগস্ট, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের পাথরের স্তূপ দেখে তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেন। কিন্তু চার দিন কেটে যাওয়ার পরও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পস্থলে স্তূপ করে রাখা রয়েছে ময়লাযুক্ত নিম্নমানের পাথর। স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনা ও মনযোগের অভাবে কাজের অগ্রগতি অতি ধীর।"

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানিয়ে দেন, "বাতিল করা পাথরগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"

অপরদিকে, প্রকল্প পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লা জানান, "এই পাথরগুলো কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।"

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি বলেন, "প্রকল্পস্থলে রাখা পরিত্যক্ত পাথর অপসারণ করা প্রয়োজন। আমি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছি।"

অবস্থান সংকট এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য এই নদী বন্দর প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন আবশ্যক। কিন্তু প্রশাসনিক প্রশাসন যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে স্থানীয় জনগণের মাঝে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে যা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।