মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিএনপির একটি ওয়ার্ড কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির ছেলে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন মনির।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর লেকু মার্কেট এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ২২ জুলাই যুবদল কর্মী আব্দুস সালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তের একপর্যায়ে আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে মনির হোসেনের নাম উঠে আসে। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মনির জানিয়েছেন, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে তিনি একাই অথবা অন্যদের সহযোগিতায় বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দিয়েছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন বলেন, কারও ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধ মেটানোর জায়গা রাজনৈতিক কার্যালয় নয়।
একই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, অপরাধী বিএনপি নেতার ছেলে হোক কিংবা অন্য কেউ, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, আসামি মনির হোসেন বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।