তিস্তা নদীকেন্দ্রিক বহুমুখী সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অতিসত্বরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
শনিবার (৮ আগস্ট) পূর্বাাহ্নে কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দর সংলগ্ন তীব্র নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ তথ্য প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনের শীর্ষ অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পসমূহের অন্যতম হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনার সুসংহত বাস্তবায়ন। সরকারের বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি এ রূপরেখা চূড়ান্তকরণে নিরবচ্ছিন্ন তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।
টেকসই ও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত অভিমত ও কারিগরি পরামর্শ প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে দ্রুতই প্রকল্পটির প্রত্যক্ষ প্রয়োগ পরিলক্ষিত হবে।
দেশের অবকাঠামোগত ও আবাসন ক্ষয়ক্ষতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, আসন্ন বরষা মৌসুমের পূর্বেই জরুরি নদী প্রতিরক্ষা কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে।
বিশেষত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অববাহিকা সংরক্ষণে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার দ্বিমুখী সুবৃহৎ মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষায় জিও-টেক্সটাইল ব্যাগ এবং স্থায়ী কাঠামোগত স্থিতিশীলতার জন্য কনক্রিট ব্লক ব্যবহূত হচ্ছে। বর্তমান কাজগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্থায়ী মহাপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি প্রদান করে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ডে শিথিলতা, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির বিন্দুমাত্র অবকাশ দেওয়া হবে না। জিও ব্যাগে বালুর পরিমাপ বা ওজনে কারচুপি সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
জনগণের প্রদত্ত করের প্রত্যক্ষ প্রতিফলনে এ সংস্থাগত উন্নয়ন সূচিত হচ্ছে, বিধায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকেও ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার গতিধারা ও মেয়াদের সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মতপ্রকাশ করেন, বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বভার গ্রহণের সময়কাল মাত্র পাঁচ মাস। বিগত ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলবস্থা দেশকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছিল।এই স্বল্প মেয়াদে সংস্কারের পরিসর কতখানি বাস্তবায়নযোগ্য, তা নাগরিক সমাজকে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনুধাবন করতে হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী চিলমারীর কাঁচকোল, উলিপুরের নামাজের চর, রৌমারীর সুখেরবাতি ও রাজিবপুরের কোদালকাটি জলসীমার ভাঙনকবলিত অঞ্চলসমূহ নৌপথে পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তাঁর জলযানবহরে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।