রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিকেলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক কর্মকর্তা (এটিও) ফখরুল ইসলাম মানিককে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্রায় ১৫০ মিটার আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লালমনিরহাটের বুড়িমারী থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরগামী একটি যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন স্টেশনে প্রবেশের সময় এর ইঞ্জিন ও পেছনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

তবে ট্রেনটির গতি কম থাকায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রংপুর-লালমনিরহাট রুটে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উদ্ধারকারী ট্রেনের সহায়তায় লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি সরিয়ে নেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেনটি পার্বতীপুর স্টেশনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রংপুর স্টেশনের ৩ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় স্টেশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে ট্রেনটির ইঞ্জিন ও পেছনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

তিনি বলেন, ‘স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় ট্রেনটির গতি খুব কম ছিল। এ কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’প্রাথমিক ধারণা থেকে তিনি বলেন, রংপুর স্টেশনের ৩ নম্বর লাইনে পর্যাপ্ত পাথর (ব্যালাস্ট) নেই।

পাথর কম থাকায় রেললাইনের স্লিপার সরে গিয়ে ট্রেনটির ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটির সদস্যরা তদন্ত শুরু করেছেন।’

দুর্ঘটনার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের যাত্রীরা। লালমনিরহাট থেকে পার্বতীপুর যাচ্ছিলেন মামুনুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। দুর্ঘটনার পর তারা রংপুর থেকে সড়কপথে গন্তব্যে যান।

মামুনুর রহমান বলেন, ‘স্টেশনের কাছে হওয়ায় ট্রেনটির গতি কম ছিল। এ কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। ট্রেনটির গতি বেশি থাকলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’

রংপুর স্টেশন এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, স্টেশনের ৩ নম্বর লাইনে পর্যাপ্ত পাথর নেই বললেই চলে। সামান্য কিছু পাথর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পাথর না থাকায় রেললাইনের স্লিপারগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অবস্থায় ৩ নম্বর লাইনে যাত্রীবাহী ট্রেন প্রবেশ করানো ঝুঁকিপূর্ণ। লাইনটি দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (লোকো) ধীমান ভৌমিক বলেন, লাইনচ্যুত ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধার করার পর রংপুর-লালমনিরহাট রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কী কারণে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধীমান ভৌমিক আরও বলেন, রংপুর স্টেশনের ৩ নম্বর লাইনটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।