ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় চৈতী রানী (৫৫) নামে এক নারীকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ ছোবল দিয়েছে। পরে স্বজনদের সহায়তায় ছোবল দেওয়া সাপটি ধরে সেটি সঙ্গে নিয়েই হাসপাতালে হাজির হন তিনি। সাপটি সঙ্গে থাকায় দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর পৌনে ৫টার দিকে চৈতী রানীকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভূল্লী উপজেলার দারাজগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তার বাঁ পায়ে সাপটি ছোবল দেয়। চৈতী রানী ওই এলাকার কুলীন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।

পরিবারের বরাতে দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কমিরুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ৩টার পর কুলীন চন্দ্র রায় তাকে ফোন করে দ্রুত বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, চৈতী রানীর বাঁ পায়ে সাপের ছোবল লেগেছে।

এ সময় স্বজনেরা মাছ ধরার টেটা দিয়ে সাপটিকে আটকে ফেলেন। পরে ছোবল দেওয়া সাপটি সঙ্গে নিয়েই চৈতী রানীকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জাহিদ হাসান বলেন, চৈতী রানীর বাঁ পায়ে সাপের কামড়ের দাগ পাওয়া গেছে। সেখানে সাপের একটি দাঁতও লেগে ছিল। রোগীর সঙ্গে সাপটি নিয়ে আসায় দ্রুত সাপটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, ছোবল দেওয়া সাপটি ‘বেন্ডেড ক্রেইট’, যা শঙ্খিনী বা শাঁখামুখী নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত বিষধর এবং সাধারণত ঘুমন্ত মানুষকে কামড়ায়। চৈতী রানীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো এবং তিনি সুস্থ রয়েছেন।