বগুড়ার ধুনটে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি টিনশেড গুদামঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সময় গুদাম মালিককে রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। আগুনে গুদামঘর ও সেখানে রাখা পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পুড়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারধুনট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কালাম মন্ডল (৪৮) ওই গ্রামের বাসিন্দা।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে কালাম মন্ডল জানান, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরোধ চলছে। প্রায় ১৩ বছর আগে মৃত মনছের আলীসহ ১২ ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ও তাঁর মামাতো-ফুফাতো চার ভাই মিলে ১৮ শতক জমি কিনে নেন। এরপর থেকে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালাম মন্ডলের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ওই জমিতে ১৬ হাত দৈর্ঘ্যের দুই চালা একটি টিনশেড গুদামঘর নির্মাণ করেন তিনি। সেখানে পাট, ভুট্টা, ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রাখা হতো। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি গুদামঘরটি ভেঙে ফেলার জন্য বিভিন্ন সময় তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এমনকি গুদামঘর সরিয়ে না নিলে আগুন দিয়ে জমি দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে নুরুল ইসলাম সরকার (৬০), জামাল সরকার (৫৫), রফি সরকার (৪৮), সামছুল সরকার (৪৫) ও মিঠু (৪০)সহ আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে গুদামঘরের ভেতরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত কয়েকজন ও মুখোশধারী কয়েকজনকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ সময় মুখোশধারী এক ব্যক্তি তাঁর ঘাড়ে রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় সজিব, সুজন মাহমুদ ও সাজুসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এর আগেই গুদামঘর ও ভেতরে থাকা পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কালাম মন্ডল।
এ ঘটনায় শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ধুনট থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামাকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বিতর্কিত জমিটি তাঁদের এবং কালাম মন্ডলসহ তাঁর স্বজনেরা ক্ষমতার জোরে সেখানে ভাঙা টিনের দুই চালার একটি ঘর তুলে রাতের আঁধারে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এটি কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গুদাম নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মানসম্মান ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওসমান গণি বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।