জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাঁঠালের রস দিয়ে বিস্কুট তৈরি করে চমক সৃষ্টি করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। পচনশীল এ ফলের অপচয় রোধের পাশাপাশি সারা বছর কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তার এ উদ্যোগ।

কাঁঠালের রাজধানীখ্যাত গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নিজের কারখানায় কাঁঠালের রস ব্যবহার করে তৈরি করছেন ব্যতিক্রমী এ বিস্কুট। কাঁঠালজাত খাদ্যপণ্য তৈরিতে অভিজ্ঞ একটি কর্মীদল তার কারখানায় কাজ করছে।

উদ্যোক্তা জানান, মৌসুমে দেশে প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এই অপচয় রোধের পাশাপাশি কাঁঠালকে সারা বছর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি ফলটি দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কাঁঠালের রস দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ এই বিস্কুট।

বিস্কুট তৈরিতে কোনো কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হচ্ছে না। কাঁঠালের স্বাভাবিক স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যতিক্রমী এই পণ্যের স্বাদ ও বৈচিত্র্য নিয়ে বাজারে আসার আগেই অনলাইনে ব্যাপক আগ্রহ ও চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।

শ্রীপুরে কাঁঠাল থেকে বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় কাঁঠালচাষি ও বাগান মালিকরা। তাদের মতে, কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে মৌসুমে উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরাও লাভবান হবেন।

উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কাঁঠালভিত্তিক আরও নানা ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করে দেশের বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে কাঁঠালের অপচয় কমার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।