কুমিল্লার ঝাউতলা এলাকার মক্কা হসপিটাল পিএলসিতে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। তবে জন্মের পর অতিরিক্ত অপরিণত ও কম ওজনের হওয়ায় দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জীবিত তিন নবজাতকের মধ্যে দুজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন এবং অপরজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সুজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল নাঈমা পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। তার স্বামী তারেক প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গর্ভধারণের সাত মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জান্নাতুল নাঈমার প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন তিনি। নবজাতকদের মধ্যে দুইজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল। তবে অতিরিক্ত অপরিণত ও কম ওজনের হওয়ায় জন্মের পরপরই দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জীবিত তিন নবজাতকের মধ্যে দুজনকে এনআইসিইউতে রেখে বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর নবজাতকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। মা ও তিন নবজাতকই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সরতাজ বেগমের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তিনি জানান, সাত মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হওয়ায় এটি ছিল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ প্রসব। নবজাতকদের ওজন কম হওয়ায় তাদের বিশেষ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মা স্থিতিশীল রয়েছেন।
প্রসূতির বাবা শামসুল হুদা বলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম পরিবারের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি দুই নবজাতককে হারানো অত্যন্ত কষ্টের। বাকি তিন সন্তানের সুস্থতার জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মক্কা হসপিটাল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার মামুন বলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম একটি বিরল ঘটনা। চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মা ও জীবিত তিন নবজাতকের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।