বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা মান্না অভিনীত ‘আম্মাজান’ মুক্তির আগেই প্রযোজক ডিপজল এক কোটি ৪ লাখ টাকা তুলে নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সিনেমাটির পরিচালক কাজী হায়াৎ। তার ভাষ্য, সিনেমাটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছিল ১ কোটি ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ মুক্তির আগেই সিনেমাটি ২ লাখ টাকা লাভ করেছিল।

সম্প্রতি নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ‘আম্মাজান’ নির্মাণের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন কাজী হায়াৎ। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে সিনেমার সব প্রিন্ট হলে পৌঁছে দেওয়ার পর হিসাব করে দেখা যায়, প্রযোজকের হাতে উঠে এসেছে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। ডিপজল সেই টাকা বস্তায় করে নিয়ে যান বলেও জানান তিনি।

কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আম্মাজান’ তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। তবে শুরুতে আম্মাজান চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবানার। শেষ পর্যন্ত তিনি সিনেমাটিতে অভিনয় না করায় চরিত্রটি করেন শবনম।

সিনেমাটির নায়ক নির্বাচন নিয়েও ছিল নানা জটিলতা। শুরুতে ডিপজল মান্নাকে নায়ক হিসেবে নিতে রাজি ছিলেন না। সে সময় দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তবে ভালো গল্পের কথা শুনলে মান্না নিজেই ডিপজলের কাছে চলে আসতেন বলে জানান কাজী হায়াৎ। পরিচালকের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত মান্নাকে সিনেমায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শুটিং শুরু হওয়ার পরও মান্না ও ডিপজলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সিনেমার একটি অংশের শুটিংয়ের জন্য এমন একটি ভবন নির্বাচন করা হয়েছিল, যা শুটিং শেষ হওয়ার পর ভেঙে ফেলার কথা ছিল। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দৃশ্যগুলোর কাজ শেষ করার তাড়া ছিল। ডিপজল মান্নাকে সেদিন আরও দুই ঘণ্টা শুটিং করার অনুরোধ করলেও তিনি তা না করে চলে যান।

ডিপজলের পুরোনো এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এমনকি সিনেমাটির কাজ আর হবে না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রায় দুই মাস পর মান্না দুঃখ প্রকাশ করে আবার শুটিং শুরু করতে চাইলে নানা ঘটনার পর শেষ পর্যন্ত কাজ পুনরায় শুরু হয়।

কাজী হায়াতের ভাষ্য, মান্না বুঝতে পেরেছিলেন ‘আম্মাজান’ দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। শেষ পর্যন্ত তার সেই ধারণাই সত্যি হয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ও আলোচিত সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নেয়।